কিছুকাল যাবত কতিপয় মৌলিক প্রশ্নে ট্রাষ্টিদের মধ্যে দ্বিমত সৃষ্টির জের হিসেবে হতদরিদ্র পাঘাতগ্রস্থদের জন্য দেশের একমাত্র হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, “Center for Rehabilitation of the Paralyzed (CRP)”-এ বিভিন্ন ধরনের অশুভ কার্যকলাপ দানা বেঁধে উঠেছে৷ সর্বশেষ ট্রাষ্টিদের একটি মহলের মতা দখলের চূড়ান্ত ব্যবস্থায় এর প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি টেইলরকে সমন্বয়কের পদ থেকে অপসারন সারা জাতিকে হতবাক করে ইতিমধ্যেই সমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে৷
পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পূনর্বাসন কেন্দ্র" বা CRPএর সঙ্গে ভ্যালেরি টেইলর জন্মলগ্ন থেকে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত৷ তিনি এর প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের জন্যে নিজের জীবন উত্সর্গ করেছেন এবং হতদরিদ্র প্রতিবন্ধীদের স্বল্পতম ব্যয়ে সেবা ও পূনর্বাসনে অন্যন্য অবদান রেখেছেন৷ দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রতিবন্ধীদের চিকিত্সা এবং পূনর্বাসনপদ্ধতি বিদেশী চিকিত্সক সমপ্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে৷ ফলশ্রুতিতে প্রায়ই বিদেশ থেকে ফিজিওথেরাপিষ্ট ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক CRP সফর করে এই প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে সেবাদানসহ শিক্ষা গ্রহন করেছেন৷
CRP যার মূল সুর - দরিদ্রসেবা, এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা পেয়ে গরীব রুগীর চিকিত্ষা ও পুণর্বাসন করতে পেরেছে৷ এদের মধ্যে বৃটিশ হাই কমিশন বাংলাদেশ, ঘNORAD, DANIDA, CIDA, US-DOL, বৃটেনে'র বন্ধু প্রতিষ্ঠান (F-CRP), "নিজেরা করি" এবং হংকং এর কাদুরী ট্রাষ্টের নাম উল্লেখযোগ্য৷ প্রায় চার দশক আগে এ দেশে আসা এই ইংরেজ ফিজিওথেরাপিষ্ট মিস ভ্যালেরি টেইলরকে তার জীবনব্যাপি অনন্য সাধারণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকার সন্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করেন এবং বৃটিশ সরকার তাঁকে OBE উপাধিতে ভূষিত করেন৷
নাগরিক কমিটিঃ আমরা দেশের সচেতন নাগরিক এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সেবামূলক কার্যকলাপে আগ্রহ প্রকাশ করেছি৷ F-CRP-UK-র অনুরোধে গত ২০০৫ সালের জানুয়ারী মাসে এর ট্রাষ্টি বোর্ডে জনাব শফি সামি এবং মিসেস লিনা আলমের অন্তর্ভুক্তির পর থেকে তাদের ও সহযোগী আরও দু'জন ট্রাষ্টির দ্বারা সংঘটিত এক নীরব অভূ্যত্থানে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি৷
আমরা এই অবস্থার উন্নতির আশা করছিলাম কিন্তু উন্নতির স্থলে অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে৷ ট্রাষ্টি বোর্ডের নামে গৃহিত সর্বশেষ কর্মকান্ড কল্পনাকেও হার মানায়৷ উল্লেখিত চার জন ট্রাষ্টি এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে চেয়েছেন এবং রোগীদের চিকিত্সা খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে লিপ্ত হয়েছেন৷
এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ল্যে তারা CRP-র আধা ডজন কর্মচারীকে চাকুরিচূ্যত করেছেন এবং নিজেদের প্রিয়ভাজনদের বেতনাদি বৃদ্ধি করেছেন৷ অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠান CRP এর মূল চেতনা থেকে সরে গেলে হতদরিদ্র পাঘাতগ্রস্থদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এবং আশার আলো বিলীন হয়ে যাবে৷ নাগরিক কমিটি এই প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রার্থে এবং এর মূল বৈশিষ্ট সংরনে জনমত সৃষ্টিতে এবং সরকারের হস্তপে কামনায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে৷ যাতে এই স্বনামধন্য
প্রতিষ্ঠানটিকে কুচক্রী এবং অশুভ মহলের হাত থেকে রা করা যায়৷
নাগরিক কমিটি এ পর্যায়ে ট্রাষ্টি বোর্ডের একটি চক্রের অশুভ কার্যক্রমের কিছু চিত্র তুলে ধরছেঃ
১৷ জনাব শফি সামি কতর্ৃক নিজেকে ম্যানেজিং ট্রাষ্টি এবং CRP -র প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দানঃ জানুয়ারী ২০০৫-এ ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে যোগদানের শুরু থেকেই তিনি ম্যানেজিং ট্রাষ্টির পদ সৃষ্টি এবং হাসপাতাল (CRP) পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচালকের পদ বিলুপ্তির জন্য জোর দেন৷ এরপর ট্রাষ্টি বোর্ডের একটি সভার তথাকথিত সিদ্ধান্তের সূত্রে Acting চেয়ারম্যান জনাব মেজর জেনারেল (অবঃ) নুরুল হক জনাব শফি সামিকে CRP-র প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেন৷ প্রতিষ্ঠানের তিনজন ট্রাষ্টি, যথা ভ্যালেরি টেলর, সাইদুর সহমান এবং মুশতাক আহমেদ এই নিয়োগের প্রতিবাদসহ ট্রাষ্টি বোর্ডের কথিত সিদ্ধান্ত অস্বীকার করেন৷ অতঃপর কোনরূপ নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে এবং নিয়োগপত্র ছাড়াই জনাব শফি সামি প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন৷ উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে সংস্থাটির ট্রাষ্ট দলিলে কোন ট্রাষ্টির বেতনভূক পদে নিয়োগের ব্যবস্থা নেই৷ তদুপরি গত ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তার বেতন কাঠামো ও চাকুরীর শর্তাদি এবং নিয়োগ পদ্ধতির আলোচনার বিষয়টি উত্থাপন করা হলে জনাব শফি সামি বিষয়টি পরবর্তিতে আলোচনার অজুহাতে পাশ কাটিয়ে যান৷
২৷ CRP এর মোটা অংকের বেতনঃ জনাব শফি সামি তার নিজের বেতন সংক্রান্ত কোন প্রস্তাব ঈজচ এর কোন সভায় পেশ করেননি৷ কিন্তু ২০০৫ এর ১১ই জুলাই এ যুক্তরাজ্য ভিত্তিক FCRP-UK একটি সভার কার্যবিবরনী থেকে দেখা যায় যে বাত্সরিক ২২০০০ পাউন্ড বাংলাদেশী টাকায় ৩০ লাখেরও বেশী তার বেতন হিসেবে ধার্য্য করা হয়েছে৷ এই অর্থ CRP এর মাধ্যমে না নিয়ে সরাসরি তার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে প্রদান করা হবে বলেও কার্যবিবরনীতে দেখা যায়৷
(প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতিষ্ঠাতা এবং সমন্বয়কারী ভ্যালেরি টেলর দীর্ঘ চার দশক পরেও এখনও নামমাত্র ভাতা মাসিক ৭,৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন৷) এই মর্মে FCRP-UK কে অবহিত করা হয় যে CRP একজন স্থানীয় কর্মকর্তার বেতন নির্ধারন এই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের সামিল এবং FCRP-UK, CRP এ দেশের বিধি বিধান উপো করে জনাব শফি সামিকে সরাসরি অর্থ প্রদান করতে পারেননা৷ অদ্যাবধি এই প্রতিবাদের কোন সুরাহা হয়নি৷
৩৷ কর্তব্যে অবহেলা, বিভাজন এবং শাসনঃ জনাব শফি সামি একজন দক্ষ ব্যক্তি হয়েও CRP এর প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ এছাড়াও ঢাকার মিরপুরে CRP এর নিজস্ব ১৩ তলা ভবনের উপরের ছয়টি ফোর ভাড়া না দিতে না পারায় তির দায় দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে৷ এই ভবনটি হংকং ভিত্তিক Kadoorie Foundation এর আর্থিক সহযোগিতায় গড়ে উঠে৷ উদ্দেশ্য ছিল নীচের ফোরগুলো মহানগরের রোগীদের চিকিত্সাদানে ব্যবহৃত হবে আর উপরের অংশ ভাড়া দিয়ে যে অর্থ উপার্জিত হবে তা দিয়ে সাভারের পূনর্বাসন কেন্দ্রের খরচ বহন করা৷ জনাব শফি সামি ব্যক্তিগতভাবে ভবনটির নির্মান কাজের অনিয়মের কথা বলেন কিন্তু কখনই কার্যতঃ কারুর বিরূদ্ধে কোন পদপে গ্রহন করেননি৷ হাবিব নামে একজন 'অভিযুক্ত' কর্মচারীর চাকুরির চুক্তি নবায়ন না করেই তিনি ক্ষান্ত হন৷ তিনি CRP -র আধ ডজন কর্মচারীকে চাকুরিচূ্যত করেছেন এবং নিজের পছন্দনীয় ব্যক্তিদের উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিয়ে নিজের স্বার্থে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দল ভারী করেছেন৷
৪৷ রোগীদের চিকিত্সা ব্যয়বহুলঃ এমন এক সময় ছিল যখন CRP হতদরিদ্র পাঘাতগ্রস্থদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে গণ্য হতো, কারন এই কেন্দ্রে বিনা ব্যয়ে চিকিত্সা, হুইল চেয়ার প্রদানসহ রোগীর পূনর্বাসন করা হতো - সেদিন আর নেই৷ এখন এই কেন্দ্রেই হতদরিদ্র রোগীদের দু মাসের সিট ভাড়া বাবদ ১২০০০ টাকা অগ্রিম গুনতে এবং ভর্তির পূর্বেই নিজ খরচে হুইল চেয়ার কিনতে হয়৷ তাই দরিদ্রের বিনা খরচে চিকিত্সা সেবা প্রদানের চেতনা বা মূল সুরটি CRP থেকে উঠে গেছে৷ কিন্তু দাতা সংস্থাগুলো এই বিষয়ে এখন অজ্ঞাত রয়েছেন বলেই আপাততঃ দৃশ্যমান৷
৫৷ সমন্বয়কের পদ থেকে ভ্যালেরি টেলরের অপসারন ঃ জনাব শফি সামি এবং লিনা আলম, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) নুরুল হক এবং বিশ্বনাথ চৌধুরীর সহযোগীতায় বেশ কিছু দিন যাবত্ ট্রাষ্টি বোর্ডকে নিয়ন্ত্রন করছেন একটিমাত্র ভোটের সংখ্যা গরিষ্ঠাতার বলে৷ অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে সাত জন সদস্যের বাকী তিনজন সভায় যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন৷ ১৯৯৭-৯৮ সালে প্রকাশিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অনুসারে ভ্যালেরি টেলর ট্রাষ্টি বোর্ডের অধীনে কিছুটা অলংকারিত অথচ গুরুত্বপূর্ন পদ, সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন৷ তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রচার এবং অর্থ তহবিল সংগ্রহ করা৷ ভ্যালেরির নাম, দতা এবং আত্মপ্রত্যয় প্রতিষ্ঠানটির জন্য তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করে এবং CRP এর স্বার্থ রার্থে সুফল বয়ে আনে৷ ট্রাষ্টি বোর্ড নিয়ন্ত্রণকারী এই গোষ্টিটি এক বছর আগে CRP-র জন্য একটি নতুন অর্গানোগ্রাম প্রকাশ করেন, যাতে ম্যানেজিং ট্রাষ্টি এবং CRP এর পদকে কেন্দ্রের সকল কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু দেখিয়ে উপদেষ্টা/সমন্বয়কের দায়িত্ব সংকুচিত করা হয়৷ অতঃপর গত ১৪ই মে, ২০০৭ তারিখে লিখিত এক পত্রাধীনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঈজচ-র নামে অর্গানোগ্রাম থেকে সমন্বয়কের পদটি বিলুপ্তি করেন৷ এর ফলে ঈজচ-র প্রশসিনিক কার্যক্রমে ভ্যালেরি টেলরের আর কোন ভুমিকা রইল না৷
৬৷ CRP ফান্ডের অপচয়ের একটি নমুনাঃ জনাব শফি সামি নভেম্বর, ২০০৬ এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা নিযুক্ত হলে দৈনিক পত্রিকায় তাঁকে সিআরপি'র পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে যে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়, নীতিগতভাবে তার বিরুদ্ধে আমাদের বিশেষ বলার না থাকলেও সিআরপি'র ফান্ড থেকে এমন ব্যয়ভার বহন সিআরপি'র উদ্দেশ্য ও কর্মকান্ড বহির্ভূত এক ধরনের অবৈধ ব্যয়৷
CRP রার্থে নিম্নবর্ণিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে নাগরিক কমিটির আকুল আবেদন
১৷ CRP এর মূল বৈশিষ্ট্য এবং চেতনা হতদরিদ্রদের বিনা খরচায় চিকিত্সা ও পূনর্বাসন পূন:প্রতিষ্ঠা করা৷ তবে হতদরিদ্রদের মধ্যে যাদের পরিবারে পক্ষেনুন্যতম খরচ বহন করা সম্ভব তাদের আয়ের মাত্রা অনুযায়ী যুক্তিসংগত কিছু ফি গ্রহনের ব্যবস্থা করা যায়৷
২৷ CRP এর ট্রাষ্টি বোর্ডে একটিমাত্র ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করতে হবে৷ রোগীর চিকিত্সা প্রদানসহ প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে CRP বোর্ডের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও দিক নির্দশনার প্রয়োজন৷ FCRP-UK এর প্রভাবে ট্রাষ্টি বোর্ডে জনাব শফি সামি এবং মিসেস লিনা আলমের অর্ন্তুভুক্তির বিষয়টি এণে তদন্তের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে৷ FCRP -কে একটি মূল্যবান সহযোগী বন্ধু প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বিবেচনা করি৷ তবে তাদের নিয়োজিত উক্ত দু'জন ট্রাষ্টির কার্যক্রম, এবং বিশেষ করে জনাব শফি সামিকে সরাসরি উচ্চ হারে বেতন পরিশোধ কতিপয় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে৷ CRP-র প্রাপ্তব্য অর্থ থেকে গোপনে বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন গ্রহণ এদেশের এনজিও আইনের লঙ্গন বটে৷ অধিকন্তু, দুই মুনিবের স্বার্থ সংরণে জনাব শফি সামি bad faith এর দায়ে অভিযুক্ত৷ এর একমাত্র ......... ট্রাষ্টি বোর্ড থেকে জনাব শফি সামির পদত্যাগ বলে আমরা মনে করি৷ লিনা আলম FCRP-UK (দাতা সংস্থা) এর একজন ট্রাষ্টি হিসেবে গ্রহিতা প্রতিষ্ঠানেও একজন ট্রাষ্টি হিসেবে থাকতে পারেন না৷ FCRP প্রয়োজন মনে করলে তাকে বড় জোর একজন পর্যবেক হিসেবে CRP-তে নিযুক্ত করতে পারে৷ অন্য দুজনা, যথাক্রমে মেজর জেনারেল (অবঃ) নুরুল হক এবং বিশ্বনাথ চৌধুরী বর্ণিত দুজনার অপকর্মে সহযোগীতার দায়ে অভিযুক্ত৷ তারা তাদের কার্যক্রমের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে ট্রাষ্টি বোর্ড থেকে তাদেরও বিদায় নিতে হবে৷
৩৷ CRP -র অভ্যন্তরে চলমান অরাজকতা ও অনিয়ম তদন্ত করে দেখার দায়িত্ব এনজিও ব্যুরোর৷ বিশেষ করে ২০০৫-০৬ এর বাত্সরিক রিপোর্টে প্রকাশিত অর্গানোগ্রাম এর কারণে প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত মূল আদর্শ ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি-না, তার পরীক্ষার আবেদন জানাচ্ছি৷ FCRP-UK কর্তৃক জনাব শফি সামির বেতন নির্ধারন এবং সরাসরি তার এ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণের বিষয়টি আইনানুগ কি-না, তাও তদন্ত করে দেখার দায়িত্ব এনজিও ব্যুরোর৷ এই প্রসংগে আমরা বৃটিশ সরকারের Charity Commission এরও হস্তপে কামনা করছি৷
৪৷ জনাব শফি সামিকে CRP -র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে অবিলম্বে অব্যহতি দেয়ার দাবী জানাচ্ছি কারণ ট্রাষ্ট চুক্তিতে একজন ট্রাষ্টিকে বেতনভোগী নিয়োগের ব্যবস্থা নেই৷ তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কয়েকজন কর্মচারীর চাকুরীচূ্যত হওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে উপযুক্ত েেত্র কর্মচারীদের পূনর্বহালের দাবী জানাচ্ছি৷
পরিশেষে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখা এবং হতদরিদ্রদের সেবা প্রদানের স্বার্থে নাগারিক কমিটি ভ্যালেরি টেলরকে সমন্বয়কের পদে সসম্মানে পুনর্বহাল করার জোর দাবী জানাচ্ছে৷ দ্রুত প্রয়োজনীয় শুদ্ধিমূলক পদপে গ্রহনসহ CRP-র দাতাদের আস্থা পুনরূদ্ধারে উপরোক্ত সুপারিশমালার বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন৷
এ বিষয়ে নাগরিক কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা জনাব ফখরুদ্দিন আহমেদের আশু হস্তপে কামনা করছে৷
ধন্যবাদান্তে,
নাগরিক কমিটির পক্ষে
>> ইঞ্জি: এস. এম. আনোয়ার হোসেন
>> মোবারক আলী মোল্লা
>> মেজর জেনারেল (অব:) এ.টি.এম. আব্দুল ওয়াহাব
>> আক্কু চৌধুরী
>> ডঃ সুমন তাহা
>> মিস ক্যারল ঈগার
>> গোলাম মোরশেদ
>> মহিউদ্দিন বাবুল
>> সায়েক রহমান |